More

Social Media

Light
Dark

কথায় না বড় হয়ে কাজে ‘বড়’ রিয়াদ

গুড লেন্থের বল। বেশ জোরের উপরই সে বলটা করেছিলেন শ্রীলঙ্কান মাথিশা পাথিরানা। দারুণ হ্যান্ড-আই কম্বিনেশন। তাতে ডিপ স্কোয়ার লেগ অঞ্চল দিয়ে বল গিয়ে সোজা গ্যালারির ছাদের উপর। সেখান থেকে মাঠের বাইরে। একজন বাংলাদেশী ব্যাটার বলকে স্টেডিয়ামের বাইরে পাঠিয়েছেন- এটাই যে বিশাল এক বিস্ময়!

মাহমুদউল্লাহ তাই করে দেখিয়েছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সমগ্র সমর্থকগোষ্ঠীকে বিস্ময়ে ভাসিয়েছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন ফুরিয়ে যাননি। তবে ফুরিয়ে যাওয়ার যে ধ্বনি চাওড় হয়েছিল তা কি একেবারেই নিরর্থক? সম্ভবত না। তবে সেই ধ্বনিকে স্তিমিত করেছেন মাহমুদউল্লাহ নিজেই। ফিরে এসেছেন প্রচণ্ড প্রতাপের সাথেই। এর আগে করেছেন অক্লান্ত পরিশ্রম।

একটু পেছনে ফেরা যাক। ২০২১-২২ সালের দিকে। তখন বাংলাদেশ দলের টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব ছিল মাহমুদউল্লাহর কাঁধে। টি-টোয়েন্টিতে সর্বাধিক ৪৩টি ম্যাচে তিনি বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সে সময়টায় বাংলাদেশ দল কেমন করেছে সে হিসেবও এখানে অপ্রয়োজনীয়। স্রেফ ব্যক্তিগতভাবে মাহমুদউল্লাহ যে অনুজ্জ্বল ছিলেন সে সময়টায়, তাই বরং মুখ্য।

ads

২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়েছিল মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বে। সে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান অবশ্য করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। ৮ ম্যাচে ১৬৯ রান করেছিলেন তিনি। স্ট্রাইকরেট ছিল ১২০ এর একটু বেশি। দলগত ব্যর্থতার সেই টুর্নামেন্টে প্রথম পর্বে দুইটি জয়ই ছিল বাংলাদেশের শেষ সাফল্য।

তবে সেই বছর জুড়ে মাহমুদউল্লাহ টি-টোয়েন্টিতে একেবারেই নিষ্প্রভ ছিলেন, সেটা নিশ্চয়ই মিথ্যে হয়ে যায় না। ২০২১ সালে ক্রিকেটের ক্ষুদ্রতম সংস্করণে রিয়াদের ব্যাট থেকে রান এসেছে ১০৫.৩০ স্ট্রাইকরেটে। অন্তত আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এমন স্ট্রাইকরেট নিতান্ত খারাপের থেকেও নিচুতে বিবেচিত হয়। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একেবারেই খারাপ নয়। প্রশ্ন হচ্ছে নিজেদের মানকে কেনই বা এত ছোট করবেন সকলে মিলে?

২০২২ সালে অবশ্য মাহমুদউল্লাহর স্ট্রাইক রেটের উন্নতি হয়েছিল। ১০৫ থেকে বেড়ে ১১০ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করেছেন তিনি সে সময়টায়। আট ম্যাচে ১৫১। নেই কোন ফিফটি। সেই উন্নতি মোটেও মাহমুদউল্লাহর পক্ষে কথা বলেনি। তাইতো তাকে ছাড়াই বিশ্বকাপের উদ্দেশ্যে দল উড়াল দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ায়।

সে বছরই থমকে যায় মাহমুদউল্লাহর টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার। এরপরই যেন নিজেকে নিয়ে ভাবার সুযোগ পেলেন তিনি। আবেগের বসে এসে কোন চটজলদি সিদ্ধান্ত নেননি। বরং নিজের দূর্বলতা নিয়ে ভেবেছেন। ঠিক কোথায় উন্নতি প্রয়োজন সেটা নিয়ে ভেবেছেন। প্রচণ্ড পরিশ্রম করেছেন। ফিরে আসার মানসিকতা রেখেছেন শত সমালোচনার পরও।

মানসিক দৃঢ়তা আর প্রবল ইচ্ছাশক্তির বলেই আবারও ক্যারিয়ারের গ্রাফটা হচ্ছে উর্ধ্বমুখী। তিনি টি-টোয়েন্টির মেজাজটা ধরতে পেরেছেন। তিনি বুঝতে শিখেছেন আধুনিক মারকাটারি টি-টোয়েন্টি খেলাটা ঠিক কতটুকু জরুরি। নিজেকে সে অনুযায়ী বদলে ফেলেছেন। আর সে সবের ফলাফলই তিনি পেতে শুরু করেছেন।

অন্তত মাহমুদউল্লাহ একটা উদাহরণ সৃষ্টি করে যাচ্ছেন। তিনি বলে যাচ্ছেন, আবেগ তাড়িত ভুল সিদ্ধান্তগুলো সর্বদাই নিজেকে পিছিয়ে দেয়। জনসম্মুখে নিজের দূর্বলতা স্বীকার করে পিছু হটে যাওয়া কোন সমাধান নয়। স্রোতের বিপরীতে গিয়ে নিজের সামর্থ্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে যারা ফিরে আসে, তারা হয় বিজয়ী, তারাই কিংবদন্তি, তারাই যোদ্ধা। মাহমুদউল্লাহ এসব কিছুই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link